দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে এবং প্রয়োজনীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অর্থের বিনিময়ে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গত ১৬ এপ্রিল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার বরাবর স্থানীয় অভিভাবক সদস্য ও এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে সুন্দরগঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী একাডেমিক সুপারভাইজার বেলাল হোসেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। নির্ধারিত অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনিক ও আর্থিকভাবে হয়রানির অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তফসিল ঘোষণা, প্রচার-প্রচারণা বা অভিভাবকদের অবহিত না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে সীচা নাছিরন নেছা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া এবং একাডেমিক সুপারভাইজারের যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে কমিটি গঠনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র বিতরণ ও গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং ভোটগ্রহণসহ স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে এসব ধাপ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতে সক্ষম হয়েছে, তাদের কমিটি দ্রুত অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে অর্থ দিতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের মধ্যে দূরত্ব এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এদিকে সীচা নাছিরন নেছা দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যপদ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আব্দুর রাজ্জাক সরকার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০১২ সালে তাকে বাদ দিয়ে শামস উদ্দিন আকন্দকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেখিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এ ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাক সরকার ২০১৩ সালে গাইবান্ধা সহকারী সিনিয়র জজ আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত ওই কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং তাকে আজীবন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বহাল রাখার নির্দেশ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই রায় থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের শেষ দিকে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন ছাড়াই পূর্বের আদলে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের পদ শূন্য দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা একাডেমিক সুপারভাইজার কার্যালয়ে বসেই কমিটি গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন, যা আইনগতভাবে বৈধ কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন, নির্ধারিত অর্থ দিতে না পারায় আমাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একাডেমিক সুপারভাইজার বেলাল হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে দায়িত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের সময় তার উপস্থিতি না থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা)কে অবহিত করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম অব্যাহত থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জে আই